ভৌগলিকভাবে পৃথিবীতে এমন খুব কম জায়গায়ই আছে যেখানে মানুষের পা পড়ে  নি। দুর্গম, দুর্ভেদ্য সব আনাচে কানাচে মানুষ চষে বেড়িয়েছে নিজের বাসাবাড়ির মত। এরপরেও এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে মানুষ হাজার চেষ্টা করেও যেতে পারেনি। ২০২০ সালে এসেও এমন জায়গার কথা আসলে কল্পনা করাও কঠিন হলেও আমাদের বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে ভারত মহাসাগরে এমন একটি দ্বীপ আছে যেখানে আজও মানুষ যেতে পারে নি। আর এই দ্বীপটির নামই সেন্টিনাল দ্বীপ
অনেক আগেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীও এই দ্বীপটি দখলে নিতে চায়। কিন্তু তারাও এই ব্যাপারে সফল হয় নি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই দ্বীপের কিছু মানুষকে বন্দী করে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল কিছু মানুষের সাথে সুসম্পর্ক করে তাদেরকে আয়ত্তে আনা কিন্তু বন্দীর কিছুদিন পরেই তারা মারা যায় যে কারণে তাদের এই উদ্দেশও সফল হয় নি।

ভৌগলিকভাবে সেন্টিনাল বঙ্গোপসাগরে হলেও রাজনৈতিকভাবে এটির দায়িত্ব ভারতের। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বহুবার দ্বীপের মানুষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও দ্বীপের মানুষরা এই ব্যাপারে কোন প্রকারের আগ্রহই দেখায় নি! বহুভাবে বহু চেষ্টা করেও দ্বীপের আদিবাসীদের ব্যাপারে কোন কিছুই জানা সম্ভব হয় নি। এরা এতটাই হিংস্র যে হেলিকপ্টার দেখলেও এরা তীর বল্লম ছুড়ে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

২০০১ সালে ভারতের ট্রাইবাল ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক টিএন পন্ডিতের নেতৃত্বে দ্বীপের অধিবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিক ভাবে দ্বীপটির তীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপহার রেখে আসা হত। যেমন , খাবার, পোশাক ইত্যাদি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তবে বিভিন্ন ভাবে এই দ্বীপ সর্ম্পকে কিছু তথ্য বাইরের মানুষের কাছে আছে। এরমধ্যে অন্যতম ভাষা ও হিংস্রতা। ধারণা করা হয় দ্বীপ অধিবাসীরা আন্দামানিক ভাষার কাছাকাছি এক ধরনে ভাষা ব্যবহার করেন। জাতিগত ভাবে তারা শিকারী জনগোষ্ঠী।

ধারণা করা হয় ৬০ বর্গ কিলোমিটারের এই দ্বীপটিতে চারশ থেকে পাঁচশ মানুষের বাস। সেন্টিনাল দ্বীপের মানুষ কৃষি কাজ করতে পারে না। এমনকি তারা আগুনও জ্বালাতে জানে না। ২০০৪ সালে সুনামিতে দ্বীপটিতে ব্যপক ক্ষতি হয়। সেন্টিনালের অধিবাসীরা বেঁচে আছে কিনা দেখার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হলে দ্বীপের লোকজন হেলিকপ্টারের দিকে তীর ছুড়ে জানান দেয়, সুনামির ক্ষয় ক্ষতির পরেও তারা অক্ষত আছে। এরপর ২০০৬ সালে আন্দামান দ্বীপের দুই জেলে এই দ্বীপের কাছে মাছ ধরতে যায়। অত্যধিক মদ পানের ফলে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। এবং রাতের বেলায় তারা সমুদ্র স্রোতে ভেসে সেন্টিনাল দ্বীপে চলে যায়। এরপর দ্বীপের অধিবাসীরা দুই জেলেকে নৃশংষ ভাবে হত্যা করে। ভারতীয় কোস্ট গার্ড লাশ উদ্ধার করতে গেলে, তারা কোস্ট গার্ডের হেলিকপ্টার লক্ষ করে তীর ছুড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত লাশ উদ্ধার না করেই তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। পরে ভারত সরকার এই দ্বীপের অধিবাসীদের বাইরের জগতের প্রভাব মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে এই দ্বীপের তিন কিলোমিটারের কাছাকাছি যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here