আফ্রিকার একটি অত্যন্ত দরিদ্র একটি দেশ মালি। এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত শুস্ক। গরমকালে এখানকার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়ে থাকে। গরম এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে এখানকার একটি নদী যার নাম “বানি” শুষ্ক হয়ে পানিশূন্য হয়ে ওঠে। এই বানি নদীর পাশেই গড়ে উঠেছে শহর জেনে। মজার ব্যাপার হল জেনে শহরটি সম্পূর্ণরূপে কাদা দ্বারা তৈরি। শহরের প্রধান মসজিদ দেখাশুনা করার দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তাঁর নাম উসমান। গরমকালে এই মসজিদ দেখাশুনা করাটা খুব কঠিন হয়ে ওঠে। জেনে শহরের এই মসজিদটি পৃথিবীর সবথেকে বড় এবং পুরনো কাদায় নির্মিত। শহরের প্রাণকেন্দ্র এই মসজিদটি।

       ইসলাম আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মসজিদটি আমাদের জন্য অনন্য

                                                                                                                      উসমান

প্রতিবছর বৃষ্টি শুরুর আগেই মসজিদটি কাদামাটি দিয়ে নতুন করে প্রলেপ দিয়ে শক্ত করতে হয়। এর জন্য নদীর তলদেশের কাদামাটি এবং তুষের মিশ্রণ ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। কিভাবে মিশ্রণ তৈরি হবে, কখন মিশ্রণটি ব্যাবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে এবং কবে থেকে কাজ শুরু হবে এই সমস্ত কিছুই উসমানের দায়িত্বে। উসমানের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে শহরের সবাই উসমানের নির্দেশমত কাজে নেমে পড়ে। মসজিদের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সমানভাবে অংশগ্রহন করে থাকে। মসজিদের দেয়ালের ভিতরের পাম গাছের গুড়ি প্লাস্টার মিস্ত্রিদের জন্য মইয়ের ভুমিকা পালন করে থাকে। প্লাস্টার দেয়া শেষ হলে শিশুরা মেতে ওঠে কাদা ছোড়াছুড়ি খেলায়।

জেনের এই কাদামাটির মসজিদের ইতিহাস প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো। মসজিদটি এই শহরের মানুষের কাছে একটি অনন্য ধর্মীয় তীর্থস্থল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here