ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি, ইন্দোনেশিয়ার অনেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে অত্যন্ত দুর্গম একটি দ্বীপ। এই সুলাওয়েসি দ্বীপে প্রায় ৪৫ হাজার বছর আগে মানুষের আগমন ঘটে। এই দ্বীপে প্রায় ১৫টি  আদিবাসীর আনুমানিক ২ কোটি মানুষ বসবাস করে। এদের মধ্যে একটি আদিবাসী গোত্র হল তোরাজা। আজকে আমরা জানবো এই তোরাজা গোত্রের একটি অস্বাভাবিক রীতি।

অত্যন্ত দুর্গম হওয়ার কারণে এখানে বাইরে থেকে মানুষের চলাচল অত্যন্ত সামান্য তাছড়া দ্বীপের মানুষরাও নিজেদের নিয়েই থাকতে বেশী পছন্দ করে। তাদের এই আত্মকেন্দ্রিকতার কারনেই মূলত তাদের নিজস্ব কিছু অস্বাভাবিক রীতিনীতি গড়ে উঠেছে। এদের কিছু রীতিনীতি এতটাই অস্বাভাবিক যেগুলো শুনলে বিশ্বাস করে উঠা কষ্টকর।

এইরকম অস্বাভাবিক রীতির মধ্যে অন্যতম হল, পরিবারের মৃত ব্যাক্তিরা পরিবারের সদস্যই থেকে যায়! তোরাজা গোত্রের মানুষেরা মনে করে মৃত ব্যাক্তিরা আসলে মৃত নয় বরং তারা একত্রে বাড়িতে বসবাস করতে পারে। তাদের কাছে মৃত মানে হল এক ধরণের রোগাক্রান্ত হওয়া।
তাদের এই বিশ্বাসের কারণে তারা মৃত ব্যাক্তিকে খাবারও পরিবেশন করে থাকে। রাতের বেলায় মৃত ব্যাক্তির ঘরে লাইটও জ্বালান থাকে। মৃতদেহ ঘরে সংরক্ষণ করা বেশ ব্যায়বহুল একারণে অসচ্ছল পরিবার বেশীদিন মৃতদেহ ঘরে রাখে না, মধ্যবিত্তরা রাখে কয়েক মাস আর ধনীরা রাখে কয়েক বছর। এরপরে একটু মহিষ উৎসর্গের মাধ্যমে মৃতদেহের সৎকার সম্পন্ন করা হয়। মহিষ এখানে পরকালের যাত্রার বাহন হিসেবে পরিচিত। কয়েক বছর পরপর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আসলে এটি একটি স্মরণসভা ধরণের অনুষ্ঠান যা মানেনে নামে পরিচিত। এখানে সবাই মৃতদের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে থাকে। এই অনুষ্ঠানে মৃতদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নতুন কাপড় পরানো হয়।

তাদের এই অনুষ্ঠানে কিছু বিশ্বাসের ভিন্নতা রয়েছে। যদিও তারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিল তবুও তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের পূজা করতো। সারা পৃথিবীর কাছে তাদের এই ঐতিহ্য অবিশ্বাস্য হলেও এটাই তাদের বিশ্বাস, স্বকীয়তা ও পরিচয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here