পশুপাখি ও মৃত্যু নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা অথবা কুসংস্কার

মৃত্যুর খবর আগাম নাকি পশু পাখিরা বুঝতে পারে! এটা নতুন কিছু নয়। বহুকাল আগে থেকেই দেশে দেশে অনেকেই এই কথাটি বিশ্বাস করে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন ইতিহাসে এবং কল্পকাহিনীতেও এই ব্যাপারে লেখা আছে। কিছু কিছু প্যারানর্মালজিষ্ট এই ব্যাপারে তাদের দৃঢ় বিশ্বাসের কথা বলেছেন।

তাহলে আসুন আমরাও জেনে নেই কিভাবে বিভিন্ন দেশে কোনকোন পশুপাখির ক্ষেত্রে কি প্রচলিত আছে

  • পেঁচা / সাদা পেঁচা

প্রাচীন প্রবাদে বলা হয়ে থাকে পেঁচা গান গাওয়া মানেই কারো মৃত্যু অতি সন্নিকটে। আসলে পেঁচার একটি বিশেষ ভঙ্গিমার ডাককেই এখানে গান বুঝানো হয়েছে। ক্যাথলিক সন্ন্যাসীরা পেঁচাকে দীর্ঘকাল ধরে “Devil’s Associate” হিসেবে বর্ণনা করে এসেছে।

ইউরোপে সাদা পেঁচা উড়ে বেড়ানোকে অনেকেই মৃত্যুর আগাম বার্তা বলে মনে করে থাকে। আসলে এমন ধারণার জন্য ইউরোপের দীর্ঘকালের উইচক্রাফট সংস্কৃতি দায়ী। সাদা পেঁচা উইচদের এ্যাসোসিয়েট হিসেবে প্রসিদ্ধ। তবে এই ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন জে কে রাওলিং। হ্যারি পটারের এ্যাসোসিয়েট হেডইউগ একটি সাদা পেঁচা যেটি আসলে অশুভ নয়!

  • কালো প্রজাপতি

কালো প্রজাপতি সম্পর্কেও একই রকমের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আসলে এটি এক প্রকার মথ। রাতজাগা এই মথকে অনেকেই দুঃসংবাদের দূত মনে করে থাকে। ইউরোপের অনেক সাহিত্যেই কালো রঙের পতঙ্গকে মৃত্যুর আরেক রূপে দেখেছেন। এমনকি আমাদের দেশে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর ছোটগল্প “মরণ ভোমরা”য় একটি কালো রঙের ভ্রমর ছিল মৃত্যুর দূত।

  • বাদুড়

দক্ষিণ আমেরিকার মায়া অ অ্যাজটেক সভ্যতায় মৃত্যুদূত হিসেবে গণ্য করা হয়। বাস্তবিকই বাদুড় খুবই রহস্যেঘেরা একটি প্রানী। ইউরোপের সংস্কৃতিতে বাদুড়ের অবস্থান ইহকাল ও পরকালের মাঝামাঝি একটি জায়গায়। বাদুড়ের ব্যাপারে আমাদের দেশেও বিভিন্ন ধরণের কল্পকাহিনীও কম নয়।

  • কালো ঘোড়া

ইউরোপে কালো ঘোড়ার ব্যাপারেও কুসংস্কার আছে। যদি কোথাও যেতে গেলে কোন কালো ঘোড়া কারো দিকে তাকিয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে তাঁর মৃত্যু অনিবার্য।

  • মোরগ-মুরগী

পশ্চিমে এমন ধারণা আছে যদি কোন মোরগ কোন মুরগীর সাথে কথা তাহলে সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কারো মৃত্যু ঘটবে। তবে সেক্ষেত্রে নাকি অবিবাহিত নারীর মৃত্যুর শঙ্কাই বেশী। যদি দুটি মুরগী একটি মোরগের সাথে কথা বলে সেক্ষেত্রে কোন দম্পত্তির মৃত্যু আসন্ন আর যদি কোন মুরগী, মোরগের ডাক নকল করে তখন বুঝতে হবে, আশেপাশে মৃত্যু ঘোরাফেরা করছে!

  • কুকুর

কুকুরের কান্নাকে কোন অশুভর ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা হয়ে থাকে। কুকুর নাকি কোন বিপদের গন্ধ পেলেই তার সুরে কান্না শুরু করে দেয়। এই বিশ্বাসটি আমাদের দেশে খুবই প্রচলিত।

  • শিয়াল

দিনের বেলায় যদি কারো বাসায় শিয়াল ধুকে পড়ে তাহলে সেই বাড়িতে মৃত্যু আসন্ন।

এই ধরণের বিভিন্ন ধরণের কুসংস্কার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত প্রচলিত। মানুষ এগুলো বিশ্বাস করে এবং মেনে চলার চেষ্টা করে। এইসব কুসংস্কার নিয়ে বিভিন্ন দেশে অনেক সিনেমাও হয়েছে। অনেক সময় অনেক ঘটনা কাকতালীয় ভাবে মিলে যাওয়ার কারণে মানুষের মনে এসব ধারণা আরও গভীর হয়েছে। এসবে বিশ্বাস না করলেও, সাবধানের মাইর নাই তাই চেষ্টা করা উচিত এগুলো এড়িয়ে চলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here